সামনে পবিত্র মাস তার আগে পড়ার অনুরোধ রইলো।
নম্রতা আসলে কি?
একজন মানুষের বড় গুণ হলো তার বিবেক, মানে মনুষ্যত্ব। যে মানুষগুলো বিবেকবান তারা নম্র হয়।
তাই খুব সাধারণ ভাবে বললে নম্রতা হলো নিজেকে আত্নবিশ্বাসী করা, নিজের চিন্তাভাবনা কে বুঝা আর ভদ্রভাবে সব কিছু অনুধাবন করা। নম্রতা মানে নিজেকে জানা, নিজেকে আবিস্কার করা, নিজেকে তৈরি করা আজকের আর আগামীর জন্য। নম্রতা হলো একটা মানুষের অন্যতম মূল্যাবান সম্পদ সেটা সবার থাকে না, সবাই ধারন করতে পারে না বা গভীরতা বুঝতে পারে না। নম্রতা মানে কখনো নিজেকে ছোট করা না। নম্র আচরনের কিছু পয়েন্ট আমি তুলে ধরলাম।
১. জ্ঞান ভাগ করা: আপনি কিছু খাচ্ছেন আর আপনার পাশে একজন ভিক্ষুক। আপনার উচিত উনাকে জিজ্ঞাসা করা, আপনি কি কিছু খাবেন বা আমার খাবারের একটা অংশ উনার সাথে শেয়ার করা। জ্ঞান হলো তেমন একটা জিনিস, সবাই জ্ঞান শেয়ার করতে পারে না, সেই মন বা নম্রতা তাদের নাই বা তারা অন্য লেভেলের মানুষ। সব সময় যে শিখতে চাই, তার কাছে নিজের জ্ঞান শেয়ার করুন। আমি সবসময় এই কাজটি করি, আমার ভালো লাগে, এ এমন এক অনুভূতি যা মনে হয় সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারবো না।
২. সফলতা নিয়ে বড়াই করবেন না: আমাদের জীবন খুব খুব ছোট। আজ আছি কাল থাকবো কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই অন্যলোকের উপর নিজের শ্রেষ্ঠতা কখনো দেখাতে যাবেন না। অনেক টিচার বা ভালো ছাত্র-ছাত্রী ক্লাসে যে পারেনা তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে। এইটা খুব খুব খারাপ। আপনি তার সাথে আজকে যেটার বড়াই করছেন সেইটা তারও হতে পারে একদিন।
৩. নিজেকে জানুন: আমি রান্নার বিষয়ে সবসময় একটা কথা বলি, রান্না শিখতে চাইলে আপনাকে প্রতিনিয়ত জানতে হবে, আবিস্কার করতে হবে, স্বাদ নিতে হবে। প্রতিটি মানুষের নিজের ভিতরে অনেক মুল্যবান ক্যাপাভিলিটি লুকিয়ে থাকে অনেকটা গভীর সমুদ্রের এর রহস্যের মত। সব সময় নিজেকে জানতে চেস্টা করুন।
৪. ভুল থেকে শিখুন: আমরা প্রতিনিয়ত শিখি, শিখতে গেলে বা চলতে গেলে অনেক ভুল করতে হয়। আমরা যদি ভুল না করি, তাহলে আমাদের শেখাটা কখনো পরিপূর্ণ হবে না, কিন্তু বার বার একই ভুল যে মানুষ করে, তা কখনো গ্রহণ যোগ্যা না। তাই ভুল থেকে যত দ্রুত সম্ভব শিখুন।
৫. ক্ষমা চাইতে আর করতে জানুন: ক্ষমা শব্দটা খুব ছোট কিন্তু এর গভীরতা খুব ব্যাপক। সবাই এর ব্যাপ্তি বুঝতে পারে না বা করার মত মন নাই। আমরা সবাই ভুল করি, সব সময়, সব জায়গায়। কারন আমরা কেউ ভুলের উপরে নই। যখন কেও ভুল করে, দায়িত্বশীল ভাবে কাজ করে না, সেইটা যদি ক্ষমার যোগ্যা হয় তবে ক্ষমা করুন। এইটা একটা অতি মুল্যবান গুন।
৬. অন্যদের সাথে তুলনা করবেন না: নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা যাকে বলে। নম্রতাকে অনেকভাবে সজ্ঞায়িত করা যায়, তার মধ্যে একটি হলো নিজেকে সুখী রাখা বা সন্মান করা। প্রতিটি মানুষের মধ্যে গুন আর দোষ দুইটাই বিদ্যমান। নিজেকে, নিজের সন্তান, সম্পদ, জীবন, স্ত্রী বা হাজবেন্ট কোন কিছুকে অন্যের সাথে কখনো তুলনা করবেন না। এইটা একদম উচিত না।
৭. অন্যের মতামতকে মুল্য দেওয়া: অনেক মানুষ আছে, তারা কখনো কারও কথা শুনে না, তারা সবসময় নিজেকে সঠিক মনে করে। তারা যদি ডুবেও যায় তখনও তারা ডুবার আগেও বলবে সে সঠিক ছিলো। এই মানুষগুলো আসলে ডোমিনেন্ট মেন্টালিটির বা অহংকারী। কখনো যদি কোন বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, আপনার বন্ধু-বান্ধব, অধিনস্ত, স্ত্রী বা হাজবেন্ট, সন্তান তাদের কাছে যান, মন খুলে বলুন আর শুনুন মনোযোগ দিয়ে। আমি নিশ্চিত এইটা সাহায্য করবেই করবেই।
৮. নিজের ভুল মেনে নিন: সব মানুষ ভুল করে, কেউ পারপেক্ট না। যদি ভুল করেন, ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিন, ভুলের মেরামত করুন, মেরামত করার জন্য যা করা গুরুত্বপূর্ণ তা সব কিছু করুন। ভুল মেনে নেওয়া নম্রতার কাজ, ভবিষ্যতে আরও সাবধান হোন।
৯. বুঝতে না পারলে বলুন বুঝি নাই: আমার ইউনিভার্সিটি লাইফের প্রথম দুই সপ্তাহ আমি শেফের লেকচার ধরতে পারছি মাত্র ২০%। হয়তো লজ্জায় আমি বলিনি বা নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ আর জড়তা অনেকগুলো কারনে বলা হয়নি। আমাদের একটা কমন সমস্যা আছে, না বুঝলেও আমরা মাথা নাড়াই। এই কাজটি কখনো করবেন না কারন ডা: কোন কিছু বলার পর, আপনি যদি না বুঝে মাথা নাড়ান বা ইয়েস ইয়েস বলে যান। তাহলে অনেক ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে। আজকে থেকে এই অভ্যাস ত্যাগ করুন। আর কেউ না বুঝলে তাকে বার বার ব্যাখ্যা করুন।
১০. ভয় না পাওয়া: নম্রতা মানে জড়তা না, নম্রতা মানে ঘরে বসে থাকা না, নম্রতা মানে ভয় পাওয়া না। নিজের বুকে সাহস রাখুন, আপনার পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস রাখুন, আর নিজেকে আবিস্কার করুন। নিজের সপ্নের জন্য ছুটে চলুন, ভয় কে শক্তিতে রুপান্তর করুন। ভুল করার ভয় থেকে বের হয়ে আসুন।
একজন নম্র মানুষ কতটা জীবন্ত, বুদ্ধিমান আর শক্তিশালী হতে পারে তার বাস্তব উদাহরণ আপনি। নম্রতার মানে এই নয় যে নিজেকে ছোট মনে করা, নম্রতা মানে আপনি সেরা সবাই সেরা।
