রোমান্টিক ভালবাসার গল্পঃ নেইলপালিশ

0

 বিছানায় বসে নিতু বাম হাতের আঙুলে নেইলপালিশ লাগাচ্ছে। তানভীর পাশের টেবিলে কি যেন লিখছিলো কিন্তু এখন লিখছে না। এখন সে তাকিয়ে আছে নিতুর দিকে। নিতু এটা বুঝতে পেরে একবার আড় চোখে তাকায়, আবার চোখ সরিয়ে নেই। নিতুর ঠোঁটে হাসি ফুঁটে উঠে। এই মানুষটা কেমন যেন! আজ বিয়ের প্রায় এক বছরের কাছাকাছি, অথচ এখনো সাহস করে নিতুর চোখের দিকে তাকাতে পারে না লোকটা। কিন্তু মাঝরাতে ঘুমিয়ে গেলে কিন্তু সে ঠিকই নিতুর মুখের



দিকে তাকিয়ে থাকে। এমন কয়েকবার হয়েছে। নিতু হুট করেই ঘুম ভেঙ্গে চোখ খুলে দেখে তানভীর তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রথম প্রথম কেমন যেন লাগত কিন্তু এখন বেশ ভালোই লাগে। এখন নিতু না ঘুমিয়েও
ঘুমের ভান করে পড়ে থাকে এবং হুট করেই একসময় চোখ খুলে ফেলে। দেখে, তানভীর তাকিয়ে আছে। নিতু কিছু না বলে উঠে বাথরুমে চলে যায়। সেখানে কিছুক্ষন একা একা হাসে তারপর আবার শুয়ে পড়ে।
বাসর রাতে তানভীর ঘরে ঢুকে নিতুকে ভয়ে ভয়ে বলে; এখানে না প্রচন্ড মশা, মশারি টাঙিয়ে দেয়, না হলে আপনি ঘুমাতে পারবেন না। বলেই উত্তরের অপেক্ষা না করেই প্রথমে যেটা করলো, উঁচু করে টাঙানো ফুলগুলো খুলতে গেলো। কিন্তু খুলতে গিয়ে ঠাল সামলাতে না পেরে পড়ে গেলো। এই দৃশ্য দেখে নিতু খিলখিল করে হেসে উঠলো। মশারি আর টানানো হলো না।
নিতু বলল এই শোনেন, মশারির দরকার নেই। আপনি জেগে থাকেন আর হ্যাঁ, সকালে উঠে আমার মুখে যেন কোনো মশার কামড়ের দাগ না দেখি। সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর নিতু দেখে তানভীর জেগে আছে এবং তাকিয়ে আছে তার মুখের দিকে।
ফ্রেশ হওয়ার জন্য উঠতেই দেখে, তার শাড়ির আঁচল তাকে পেঁচিয়ে বালিশের সাথে গুঁজে রাখা। তানভীর ভয়ে ভয়ে বলে, আপনি পাশ ফিরলে বারবার সরে যাচ্ছিলো তাই এভাবে আটকে দিয়েছি। সেই বাসর রাত থেকে শুরু, তানভীর এখনো এভাবে নিতুর ঘুমন্ত অবস্থায় তাকিয়ে থাকে।
নিতু নেইলপালিশ লাগানো শেষ না করে, হুট করেই তানভীরের দিকে ফিরে। তাড়াতাড়ি তানভীর চোখ নামিয়ে নেয়। নিতু এগিয়ে এসে হাতটা তানভীরের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
- দেখো তো কেমন হয়েছে?
- ভালো। (থতমত খেয়ে)
- শুধু ভালো?
- না না, অনেক সুন্দর হয়ছে। কিন্তু দু'টো আঙুলে দাও নি কেনো?
নিতু নেইলপালিশ এগিয়ে দিয়ে বলল, তুমি দিয়ে দেওয়ার জন্য। তানভীর হাত বাড়িয়ে নিলো। সুন্দর করে দিবা কিন্তু, নিতু বলে উঠে।
তানভীরের হাত কাঁপছে, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে। তার মনে হচ্ছে সে এক কঠিন পরীক্ষা দিতে বসেছে, যে পরীক্ষায় তার একটা প্রশ্নও কমন পড়ে নি কিন্তু তাকে এই পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতেই হবে যে করেই হোক।
এদিকে তানভীরের অবয়ব দেখে নিতু হাসছে। সামন্য একটা বিষয় নিয়ে লোকটা কপালে ঘাম জমিয়ে ফেলেছে। নিতু বলে উঠে,,
- আমি যদি সময়কে বেঁধে রাখতে পারতাম তবে এই মধুর মুহূর্তগুলো কে বেঁধে রাখতাম।
- কিন্তু আমি তা চাই না।
- (অবাক হয়ে) কেন?
- তোমার সাথে কাটানো আমার প্রতিটা মুহূর্তই মধুর। তবে আমি কেন কিছু মুহূর্তকে বেঁধে রাখবো? আমি তোমায় বেঁধে রাখবো আমার দুই বাহুর মাঝে। যাতে জীবনে প্রতিটি মুহূর্তই মধুর হয়ে যায়।।
এই বলে তানভীর নিতুকে জড়িয়ে ধরে, নিতুও বুকের মাঝে ঠায় খোঁজে নেই। আর মনে মনে ভাবে, আমার বরটা অতটাও আন-রোমান্টিক নয়, যতটা আমি ভাবি।।।
নেইলপালিশ

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top