তারপর অনেকদিন'ই আমাদের দেখা হয়েছে।
পরোক্ষণেই মনে হয়েছে অনেক দূরের কেউ আমরা দু'জন।
দূরত্ব নামক ছোট এই শব্দটার যে এতো ক্ষমতা তা আগে বুঝিনি।
সত্যি বুঝিনি বিষন্ন ব্যাথিত ভগ্নহৃদয় দুটি,
সময়ের সাথে এতোটা পরিনত হতে পারে।
মাঝে মাঝে সম্পর্কের ভাঁজে জমতে থাকা অভিমান গুলো,
জানান দিতো!কতটা সময়, কতোগুলো মুহূর্ত ফুরিয়েছে,
কতটা পুড়েছে নিঃশ্বাস!
তাই তো এতো পরিচিত মানুষটাকে আজ ভিষন অপরিচিত লাগছে।
মুচড়ে যাওয়া হৃদয়ের কঠোরে স্মৃতি গুলো জরাজীর্ণ হয়ে আছে।
তবুও ভদ্রতা বজায় রাখতে চোখে থেকে নেমে আসা
কাজলের জ্বল লুকিয়ে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম! ভালো আছো তো?
তুমি আফসোস করলে, অনুশোচনা চোখে তাকিয়ে বললে!
ভালো নেই! একটুও ভালো নেই তুমি!
অথচ তোমার দেওয়া অভিশাপে বেশ ভালো আছি আমি।
দুঃখ আমাকে স্পর্শ করতে পারলেও গ্রাস করতে পারেনি!
জানো, সেদিন আমিও আফসোস করে ছিলাম!
কেনো আমি তোমাকে ফেরাতে পারেনি।
মাসের পর মাস গিয়েছে আমি তোমাকে ভুলতে পারিনি,
তারপর আর কারো অবহেলা গায়ে মাখিনি।
মেঘে মেঘে ভাসতে ভাসতে আমি চোখের পলকে সমুদ্র পারি দিয়েছি।
নিয়ম ভাঙতে শিখেছি, অবহেলাকে এড়িয়ে যেতে শিখেছি।
থেমে থাকা যে জীবন নয়, আমি জেনেছি।
তারপর তুমি আমার চোখের দিকে তাকালে,
অভিযোগের করুন দৃষ্টি অনুতাপে ছলছল করে উঠলো।
সেদিন দ্বিতীয় বারের মতো আবারও অনুভব করলাম!
নিঃস্ব মানুষের নিঃশ্বাসে বুকের ভেতরটা কতটা ভারী হয়।
তবে কিঅবহেলা তোমার ঘরেও কড়া নাড়লো?
ফুরিয়ে গেলো তোমার মিথ্যে হাসির মেয়াদ?
পাওয়া না-পাওয়ার হিসাব মিলিয়ে তুমিও এখন শূন্য!আকাশের মতো।
হয়তো এ শহরে আমাদের আবারো দেখা হবে,
তবে কোনদিন ও আর জানা হবে না!
অভাব কাকে কতটা পুড়ায়!
মুখোশের আড়ালে কে কাকে কতটা ঠকায়!
জিতে গিয়েও কে কতটা প্রস্তায়!
--- পারভীন ইসলাম
